পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য ইরানের ভিসানীতিতে পরিবর্তন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বের ২৮টি দেশের ওপর থেকে ভিসাপ্রথা তুলে নিতে চায়। তবে সেসব দেশকেও একই ব্যবস্থা নিতে হবে। ইরানের পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এ পরিকল্পনা নিচ্ছে। এ কথা জানিয়েছেন ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার পরিচালক মাসুদ সুলতানিফার।

 তিনি বলেন, পর্যটন আকর্ষণের জন্য আমরা ৪০টি দেশকে তালিকার শীর্ষে রেখেছি। এর মধ্যে ২৮টি দেশকে ভিসাপ্রথা তুলে নেয়ার অনুরোধ করেছি। কূটনৈতিক চ্যানেলে এ বিষয়ে আলাচনা চলছে। তবে কোন কোন দেশ এর আওতায় পড়বে তা জানা যায় নি।
 সুলতানিফার আরো জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইলেক্ট্রনিক ভিসা চালুর কাজ করছে যা ই-ভিসা নামে পরিচিত। এ ব্যবস্থা চালু হলে ভিসাপ্রথায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং সবাই নিজ নিজ দেশ থেকে পর্যটক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া, অন অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
 মাসুদ সুলতানিফার বলেন, যেসব দেশ ইরানি নাগরিকদের জন্য সন্তোষজনকভাবে তাদের দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে সেসব দেশের জন্য ভিসাপ্রথা বাতিল করা হবে। তিনি বলেন, ইরান বিদেশী পর্যটক আকর্ষণের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করতে তুলতে চায় এবং এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার বার্ষিক আয় আড়াই হাজার থেকে তিন কোটি ডলারে নিতে চায়।
গত বছর ইরানে বিদেশি পর্যটক এসেছে ৫৫ লাখ এবং এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৫৭০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে ইরানি পর্যটকরা এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে।
ইরান হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনের দেশ যেখানে বহু প্রাচীন ও প্রাকৃতিক নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি নির্দশনকে জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করেছে। সুত্রঃ আইআরআইবি।