কক্সবাজার জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ :

প্রাকৃতিক শোভায় সুশোভিত কক্সবাজার জেলায় রয়েছে বহু দৃষ্টিনন্দন স্থান। এসব স্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু বর্ণনা উপস্থাপন করা হল-  

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। ১২০ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ সমুদ্র সৈকতে বৈশিষ্ট হলো পুরো সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়, কাদা অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক ঝিনুক নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল মোটেল কটেজ, নিত্যনব সাজে সজ্জিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহর পর্যটন মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে। সুইজারল্যান্ডের “New Seven Wonderers Foundation” নামীয় বার্নাড ওয়েবার এর ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০০০ সালে ২য় বারের মত বিশ্বের প্রাকৃতিক নতুনসপ্তাশ্চার্য নির্বাচন প্রতিযোগিতায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি কয়েকবার শীর্ষ স্থানে ছিল। শীর্ষ স্থান ধরে রাখার জন্য প্রচার প্রচারণা কম ছিল বলে অনেকেমনে করে থাকেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে চ্যানেল আই আদিবাসী মেলা আয়োজন করে সরাসরি সম্প্রচার করেও দেশি-বিদেশি ভোটারদের ভোট অর্জনকরতে সক্ষম হয়নি। ফলশ্রুতিতে মায়াবী সমুদ্র সৈকতটি শীর্ষ স্থান কেন, কোন স্থানই অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তাই বলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মানসম্মান হানি হয়েছে? নিশ্চয়ই নয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি তার স্ব-মহিমায় সমুজ্জ্বল রয়েছে। এর সৌন্দর্য কোনভাবে কোনদিন হানি করা যাবে না।বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও চ্যানেল আই যৌথ উদ্যোগে ২য় বারের মতো ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ খ্রিস্টাব্দ তারিখ লাবনী সৈকতে আয়োজিত আদিবাসীমেলায় অন্যতম ইভেন্ট আদিবাসী সুন্দরী প্রতিযোগিতায় কক্সবাজারের রাখাইন মেয়ে মিস ফ্রুমাসে সেরা প্রিয়দর্শিনী নির্বাচিত হন।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকেঅপরূপ সাজে সজ্জিত করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও স্থানীয় সী-বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান। পুরনো ঝিনুক মার্কেট ভেংগেআটটি রঙ্গের ছাতার আদলে নতুনভাবে নির্মিত আধুনিক ঝিনুক মার্কেট ‘বীচ পার্ক মার্কেট’ সত্যি দেখার মতো। প্রতিটি মার্কেটে আটটি করে দোকাননির্মাণের স্পেস থাকলেও দোকানীরা নিজেদের সমঝোতার মাধ্যমে আটটি দোকানকে ষোলটি, ক্ষেত্রবিশেষে বিশটি দোকান ঘর তৈরী করেছে।  পাশে অনুরূপআরো তিনটি

ছাতা মার্কেট নির্মাণাধীন রয়েছে। শামুক-ঝিনুক ও  প্রবালের দোকানের পাশাপাশি বার্মিজ পণ্যসামগ্রী, কস্মেটিক, ফাস্টফুড, কুলিং কর্ণার, শুটকি, স্টুডিও, মোবাইল সপসহ নানা দোকানের সমাহার রয়েছে এসব মাকের্টে। সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ মুখে কক্সবাজার জেলা পরিষদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় দৃষ্টিনন্দন বীচগার্ডেন কাম পার্ক ও ২৬ টি দোকান সমৃদ্ধ ঝিনুক মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। বাগানের সম্মুখে লাবনী পয়েন্টে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ও বীচ ম্যানেজমেন্টকমিটির তত্ত্বাবধানে দু’তলা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও জেলা প্রশাসনের স্থায়ী মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা রয়েছে।

 কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীস্ম এমন কোন সীজন নেইসমুদ্র সৈকতের চেহারা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম। গোধুলি বেলার বীচের হাওয়া-অবস্থা আর রাতেরবেলার আবহাওয়া-অবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই তো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্যাপ্টেন কক্স এর সমুদ্র সৈকত এত কদরের, এত পছন্দের। বিদেশিপর্যটকদের ইদানিং তেমন চোখে না পড়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে এখানে সুযোগ সুবিধা তাদের জন্য আহামরি তেমন কিছুই নেই। পর্যটকরা সী বীচেকোন ধর্মীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে আসে না। তারা আসে সী-বীচের সাথে আলিঙ্গন করতে, স্নান করতে, এর সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে আরনির্ভেজাল নির্ঝঞ্জাট ও নিরাপদ পরিবেশে বিশুদ্ধ বাতাস খেতে। অপমান কিংবা অপদস্ত হতে নিশ্চয় কেউ বীচে গমন করে না। কর্তৃপক্ষ সী-বীচের জনপ্রিয়তাক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন্ জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ওপেন কনসার্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বীচ-ফুটবল, বীচ-ভলিবল, বীচ-ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, জাতীয় ঘুরি উত্তোলনের উৎসব, বালু স্কালপ্চার নির্মাণসহ অনেক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশে সার্ফিং-কে জনপ্রিয়  খেলা হিসেবে  গড়েতোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সী-বীচের  লাবণী  পয়েন্টে সার্ফিং  ক্লাবের  জন্য  অস্থায়ী  সার্ফিং  কুটির  স্থাপনের  জন্য সাময়িক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সম্প্রতি বীচ পুলিশ সংযোজন নিঃসন্দেহে সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ছলনাময়ী ও মায়াবী সমুদ্র সৈকতে স্নানকরতে গিয়ে প্রতি বছর মৃত্যুর ঘটনা সত্যি বেদনাদায়ক। স্নান করতে নামা পর্যটকদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। জোয়ার ও ভাটারসময় প্রদর্শনের জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে রয়েছে স্থায়ী-অস্থায়ী বিলবোর্ড ও ব্যানার। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক ঘূর্ণিঝড় ওজোয়ার-ভাটার জনসচেতনতা ও  শিক্ষামূলক  বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সমুদ্র সৈকতে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্টে এলসিডি টিভি মনিটর স্থাপনের জন্যকয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। ইয়াসীর লাইফ গার্ড ও ওয়াচ বে লাইফ গার্ড এর সাহসী কর্মীরা অনেকপর্যটকের জীবন রক্ষা করেছে। জীবন রক্ষাকারী এ ধরনের জনমানব সেবামূলক আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে।  কক্সবাজার রূপালী সমুদ্র সৈকতেবীচ বাইক, জেট স্কী, ঘোড়ার গাড়ি বা ঘোড়া পর্যটকদের  জন্য আনন্দের খোরাক যোগায়। সমুদ্র সৈকতে অনেক চেঞ্জিংরুম, বাথরুম, টয়লেট স্থাপনেরকারণে পর্যটকদের প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে কোন অসুবিধে হচ্ছে না যা কয়েক বছর আগেও পর্যটকদের জন্য কল্পনাতীত ছিল।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মোৎসব শারদীয় দূর্গা পূজার মহান বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সমুদ্র সৈকতে লাখো মানুষের পদচারণায় সমুদ্রসৈকতটি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা থেকেও প্রতিমা বিসর্জন দিতে এখানে সমাবেত হয়। আবহমানকালথেকে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বিসর্জন অনুষ্ঠান উপভোগের নিমিত্তে লক্ষাধিক পূজারী ও পর্যটকের অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা ঘটে সমুদ্র সৈকতে। এ উপলেক্ষেস্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে গুরুত্ব সহকারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বর্ষাবাস আরম্ভ হওয়ার আগে বর্ষামৌসুমে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন সমুদ্র সৈকতের পাশে স্থিত ঝাউবিথির ভেতরে গ্রুপে গ্রুপে পিকনিক আয়োজন করার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে পর্যটকদেরধারণা হতে পারে যে, সমুদ্র সৈকতে কোন উৎসব হচ্ছে কিনা। এটি কোন সামাজিক উৎসব নয়, ধর্মীয় উৎসবতো অবশ্যই নয়। অতি উৎসাহী কতিপয়সংবাদকর্মী এটিকে রাখাইন সম্প্রদায়ের উৎসব হিসেবে প্রচার করে থাকে। বছরে এক থেকে দেড় মাস সময়কালে (জুন-জুলাই) সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে  এধরনের  পিকনিক তথা  বর্ষার উৎসব আয়োজন চলে আসছে

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সে অনেক দিন আগে থেকে। আনন্দের আতিশয্যে পিকনিকের নামে যাতে কেউ অনাকাঙ্খিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা অবতারণা করেপিকনিকের আনন্দঘন পরিবেশকে কলূষিত করতে না পারে এ বিষয়ে সচেতন থাকার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলেরই।

কুতুবদিয়া বাতিঘর

‘কুতুবদিয়া দ্বীপ’ বিখ্যাত বাতিঘরের কারণে এ প্রবাদটি ছোটবেলায় বিভিন্ন পাঠ্য পুস্তকে লেখা ছিল। ইদানিং তেমনটি আর লেখা হয় না। কারণ বাতিঘরটিআর কুতুবদিয়াতে নেই। আছে বাতিঘরটির ভগ্নস্তূপ এলাকা নিয়ে গঠিত বাতিঘরপাড়া। কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলায় একটি দ্বীপ উপজেলা। চান্স এন্ডব্রাদার্স কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত স্থপতি নেয়ার বার্মিংহাম এর তত্ত্বাবধানে ১৮৪৬ সালের দিকে কুতুবদিয়ার দক্ষিণধুরং ইউনিয়নের আলী ফকিরডেইল নামক স্থানে আটতলা তথা আটকক্ষ বিশিষ্ট বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়। ১২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গোলাকৃতি আলোক স্তম্ভের প্রতিটি কক্ষে মূল্যবানকাঁচ খচিত জানালা ছিল। কক্ষের চারদিকে রেলিং ছিল। সর্বোচ্চ কক্ষে বাতিঘরটি প্রজ্জ্বলন করা হতো। ১৯ মাইল দূর থেকে নাবিকরা এ বাতিঘর থেকেআলো প্রত্যক্ষ করে দিক চিহ্নিত করতো। শংখ নদীর তীব্র স্রোতের তোড়ে বাতিঘরটি ধ্বংস হতে থাকে। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে বাতিঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হলেগভীর সমুদ্রে চলাচলরত নাবিক ও মাঝিমাল্লাদের কথা মাথায় রেখে তদানীন্তন সরকার ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে একই এলাকায় অর্থাৎ এর দু’কিলোমিটার পূর্বেবাঁধের ভেতরে প্রায় সাত একর জমিতে আরো একটি বাতিঘর নির্মাণ করে। বাতিঘরের সাথে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য একটি রেস্ট হাউস ও দু’টিআবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পুনঃ নির্মিত বাতিঘরটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়। নানাঅনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় মেয়াদোত্তীর্ণ এসব স্থাপনা জরাজীর্ণ অবস্থায় কালের নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনো সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ায় অযত্ন, অবহেলা অবস্থায়বিদ্যমান রয়েছে। কুতুব আউলিয়ার উত্তরসূরি হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফের অসংখ্য ভক্ত প্রায় প্রতিদিন কুতুবদিয়াসফর করে থাকেন। কুতুবদিয়া সফরের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক বাতিঘরের অস্তিত্ব সন্ধানের জন্য পর্যটকদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

সোনাদিয়া দ্বীপ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গপসাগরের কূল ঘেষে ককসবাজার জেলার অপূর্ব সোন্দর্য্য বেষ্টিত পর্যটন, মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি বিছিন্ন সোনাদিয়া দ্বীপ। সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন ৪৯২৮ হেক্টর। এ দ্বীপটি পূর্ব পশ্চিমে-লম্বা। সৃষ্টি শৈল্পিক আদলে গড়া কক্সবাজার জেলার পর্যটন শিল্পের আরেক সম্ভাবনাময় সৈকতের নাম সোনাদিয়া। এখানে রযে়ছে বালিয়াডি়, কাছিম প্রজনন ব্যবস্থা, চামচ ঠোটের বাটন পাখি এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পরিমান ০৩.১৫ একর। শুটকী মহাল রযে়ছে ২টি, চিংড়ী চাষ যোগ্য জমির পরিমান ৯৮.০০ একর। বন বিভাগের জমির পরিমান ২১০০ একর। বাকী সব প্রাকৃতিক বনায়ন ও বালুময় চরাঞ্চল। দূষণ ও কোলাহল মুক্ত সৈকত, লাল কাকড়ার মিলন মেলা, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম, পূর্ব পাড়ার হযরত মারহা আউলিয়ার মাজার ও তার আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যঅস্থের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আকাঁ-বাঁকা নদী পথে নৌকা ভ্রমন। যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এ দ্বীপে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে এ পযন্ত পর্যটন আর্কষনের আধুনিক কোন পদক্ষেপ বলতে গেলে নেওয়া হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা পূর্বক তা বাস্থবায়ন করা গেলে পর্যটন রাজধানী হিসাবে পরিচিত কক্সবাজার শহরের অতীব নিকটবর্তী এ দ্বীপটি পর্যটন বিকাশে অন্যতম স্থান হতে পারে যা দেশের তথা কক্সবাজারের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে। পাশাপাশি দ্বীপবাসীর জন্য বিকল্প আযে়র সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই দ্বীপে দ্বীপবাসীর সম্পৃক্ততায় কমিউনিটি ভিত্তিক ইকোট্যুারিজমের যথেষ্ট সুযোগ রযে়ছে। যা দ্বীপবাসীর বিকল্প আযে়র ব্যবস্থা সহ অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন উলে¬¬খযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সোনাদিয়ার দ্বীপের নামকরণের সঠিক কোন ঐতিহাসিক তথ্য থাকলেও সোনাদিয়ার দ্বীপকে ঘিরে আদিকাল হতে সোনা সমতুল্য দামী পন্য মৎস্য সম্পদ আহরিত হত বলে এই দ্বীপ সোনার দ্বীপ, সোনাদিয়া বলে পরিচিতি। তাই ঐতিহাসিক ভাবে না হলেও লোক মুখে উচ্চারিত সোনাদিয়ার কথা বির্বতনে সোনাদিয়ার রুপান্তরীত হয়। দ্বীপটি সোনাদিয়া হিসাবে বর্তমানে প্রজন্মের কাছেও বই পুস্তুুকে স্থান পাচ্ছে। কালক্রমে মানুষ মহেশখালীর অপরাপর এলাকা সমূহে বসবাস শুরু করলেও আদিকাল পরিচিতি সূচনা হয় সোনাদিয়া ঘিরে। কারণ প্রাচিন কালের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রাচীন মাধ্যমে ছিল নদী পথ, তদুপরি মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম ও ছিল মৎস্য শিকার। তাই উভয় কারণে সোনাদিয়ার সাথে মানুষের পরিচয় ঘটে অনেক পূর্ব থেকে। মহেশখালীতে মূলত ১৫৫৯ সালের ভয়বহ জলোচ্ছাসের পর হতে বসতি আরম্ভ হয় তদপুর্বে মহেশখালী কক্সবাজারের সাথে যুক্ত ছিল বলে ইতিহাসে প্রমান্য। কালক্রমে মহেশখালী চট্টগ্রাম এলাকা থেকে লোকজন এসে বসতি শুরু করে । তৎমধ্যে বিশেষ ভাবে যারা মাছ শিকার পেশার সাথে পূর্ব হতে জডি়ত ছিল এবং সোনাদিয়া সম্মন্ধে অবগত ছিল তারাই সোনাদিয়াতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার অধিক উপযুক্ত মনে করত। সোনাদিয়ার প্রাচীন পরিবার হচ্ছে‘‘ ফৌজনীর পরিবার। ব্যক্তি বিশেষে ছাদের আলী, আশরাফ মিয়া ও আছাদ আলী এদের পরিবার সোনাদিয়ার ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবার বলা চলে।স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সমযে় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এই দ্বীপে অনেক দিন অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তীতে ঐ পরিবার শেখ মুজিবের পক্ষ পতে প্রাপ্ত অবদানের কথা শোনা যায়। বর্তমানে ৮১০ জন নারী-পুরুষের বসবাস সোনাদিয়ায়, তৎমধ্য ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৩৮৪ জন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে শুকানো বিভিন্ন প্রজাতির সুটকী মাছ ভোজন খুবই সু-স্বাদু। তাই কক্সবাজারে পর্যটনে আসা কোন পর্যটকই সোনাদিয়ার শুটকী ছাড়া ঘরে ফিরতে চায় না। সোনাদিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়।এখানে রযে়ছে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মসজিদ রযে়ছে ২টি। সাদা বাইন, কালো বাইন, কেওড়া, হরগোজা, নোনিয়া সহ প্রায় ত্রিশ প্রজাতির প্যারা সমৃদ্ধ উদ্ভিদ বিদ্যমান। মোহনা, চর ও বন ভূমিতে ঊনিশ প্রজাতির চিংডি়, চৌদ্দ প্রজাতির শামুক ,ঝিনুক নানা ধরনের কাকড়া (যেমন ,রাজ কাকড়া ,হাব্বা কাকড়া, জাহাজি কাকড়া ,সাতারো কাকড়াসহ প্রায় আশি প্রজাতির সাদা মাছ, পঁয়ষট্টি প্রজাতির (বিপন্ন প্রায়) স্থানীয় ও যাযাবর পাখি এবং কমপক্ষে তিন প্রজাতির ডলফিন বিচরণ করে থাকে। বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের মধ্যে কোরাল, বোল, বাটা, তাইল¬া, দাতিনা, কাউন (কনর মাছ) ও প্যারাবন সমৃদ্ধ এলাকার অন্যান্য মাছ পাওয়া যায়। সরকারী ভাবে পর্যটনের ব্যবস্থা করলে দ্বীপের অবহেলীত মানুষের কর্ম সংস্থান হবে এবং সরকারী খাতে প্রচুর রাজস্ব আয় হবে।

সেন্টমার্টিন

টেকনাফ থানা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. সমুদ্র গর্ভে মনোরম দ্বীপ সেণ্ট মার্টিন। প্রায় ১৬ বর্গ কি.মি. জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সমুদ্র তীরে সারি সারিনারিকেল বৃক্ষ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার আদিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন- সব মিলিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ জাগানিয়াউপাদানের বিন্দুমাত্র অভাব নেই।

দ্বীপে পা দিয়েই বুঝতে পারবেন এটিকে নিয়ে মানুষ কেন এত মাতামাতি করে, আর কেনইবা একে বলা হয় সুন্দরের লীলাভূমি। বাংলাদেশে যতগুলোউল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকা রয়েছে সেন্ট মার্টন তার মাঝে অন্যতম ও নান্দনিক। দ্বীপটি দৈঘ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থে কোথাও ৭০০ মিটার আবারকোথাও ২০০ মিটার। সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। দ্বীপের শেষ মাথায় সরু লেজের মতআর একটি অবিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে যার নাম ছেঁড়াদ্বীপ।

সেন্টমার্টিনের অধিবাসীরা প্রায় সবাই জেলে। শুটকি তাদের প্রধান ব্যবসা। কিছু কৃষক পরিবার এখানে ধান, ডাল, শাক সব্জী উৎপন্ন করে। এ ছাড়া পর্যটনশিল্পের সাথে বহু স্থানীয় মানুষ জড়িত রয়েছে। এই দ্বীপের বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় চার হাজার। বর্তমানে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ব্যাংক, পোস্ট অফিস,থানা-ফাঁড়িসহ নানান স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দ্বীপের সমুদ্র ঘেঁষে একপাশে আছে কচ্ছপের হ্যাঁচারি।

এটি সত্যিই একটি ভিন্ন প্রকৃতির দ্বীপ। অসংখ্য নারিকেল গাছ, কেয়া গুল্ম আর সবুজ বনানী এই দ্বীপকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পুরো দ্বীপ ঘুরলে মনে হবেনারিকেল বাগান এটি। আপনি চাইলে অর্থের বিনিময়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারেন নারিকেল জলে। এর একদিকে যেমন প্রবাল প্রাচীর ঘিরে রেখেছে, অন্য দিকেবালুকাময় সৈকত প্রহর গুনছে আপনার অপেক্ষায়। সৈকতের অজস্র লাল কাঁকড়া আপনাকে নিঃসন্দেহে আকৃষ্টে করবে। অবচেতন মনেই আপনি কুড়িয়েনিবেন বিভিন্ন রকম নুড়ি পাথর আর ঝিনুক। আর অযুত নিযুত সি গালের ওড়াউড়ি তো আছেই আপনার মন মাতাতে।

ইতিহাস-

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্থানীয় ভাবে জাজিরা নামে পরিচিত। এক সময় এই দ্বীপটি ছিল একটি বিশ্রামাগারের মত। বিভিন্ন দেশের বনিকরা বিশেষ করে আরববনিকরা পন্য নিয়ে যখন সওদা করতে যেতো তখন তারা এই দ্বীপে বিশ্রাম নিত। আর তখন থেকেই এই দ্বীপের নাম হয় জাজিরা। তবে পরবর্তীতে এটিনারিকেল জিনজিরাও বলে পরিচিতি লাভ করে। অসংখ্য নারিকেল গাছের সমারোহ থাকায় এই দ্বীপকে এই নামে ডাকা হয়ে থাকে। সর্বশেষে ইংরেজরা এইদ্বীপটির নামকরন করে সেন্ট মার্টিন এবং দেশ বিদেশের মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত এই নামেই পরিচিত। তবে নামকরণ নিয়ে আছে মজার একটি গল্পও-ও।একদা নাকি নারকেল জিঞ্জিরায় মার্টিন নামে অলৌকিক শক্তির অধিকারী এক সাধু বাস করতেন। একবার ঘূর্নিঝড়ের সময় উচুঁ উচুঁ ঢেউ দ্বীপটিকে গ্রাসকরে নেবে- ঠিক সেই সময়ই সাধু মার্টিন নাকি তাঁর অলৌকিক শক্তিবলে বিশাল একটা আকাশ সমান পালের মতন ফুলে উঠে অস্থির অশান্ত ঢেউগুলি আটকেদ্বীপটিকে রক্ষা করেছিলেন। তারপর থেকেই সাধু মার্টিনের নামেই দ্বীপের নাম হল সেন্ট মার্টিন।

যেভাবে যেতে হবে
অনেক ভাবেই পৌছানো যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এখানে যেতে হলে প্রথমেই যেতে হবে টেকনাফ জাহাজ ঘাটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে বাস বামাইক্রোবাসে করে যাওয়া যাবে ৯ কিমি.। টেকনাফের জাহাজ ঘাটে গিয়ে আপনাকে সী ট্রাকের টিকেট কাটতে হবে। টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনের দুরত্ব ৩৫কিলোমিটার। শীতের মৌসুমে সাগর শান্ত থাকে তাই এই সময় এখানে যাওয়া অনেক বেশী নিরাপদ। এই পর্যটন মৌসুমে এখানে টেকনাফ হতে সেন্ট মার্টিনপর্যন্ত কেয়ারী সিন্দবাদ সহ বেশ কয়েকটি সী-ট্রাক চলাচল করে। সকাল ১০ টায় এই নৌযানটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং বিকাল ৩ টায় ফিরেআসে। তবে এছাড়াও ট্রলার ও স্পীড বোটে করে যাওয়া যায় সেন্ট মার্টন। সী ট্রাক গুলো এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলাচল করে। এর পর বৈরি আবহাওয়ার কারনেপ্রশাসন এদের চলতে দেয়না। এছাড়া বি.আই.ডব্লিও.টি.সি এর সি ট্রাকসহ আরও দু একটি আধুনিক জলযান চলে এ পথে। এতে জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-২৫০টাকা। সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে গেলে অবশ্যই আগে থেকে হোটেল নিশ্চিত করে যাওয়া ভালো।

ধীরে-সুস্থে প্রায় এক ঘণ্টায় পুরো দ্বীপ বেড়িয়ে আসা যাবে। বাজারের কাছে ছোট ভ্যানগাড়িতে পুরো দ্বীপ বেড়িয়ে আসতে লাগবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।দ্বীপটি জমজমাট থাকে মাঝরাত অবধি। দিনে এসে দিনে যেতে চাইলে তাড়াতাড়ি করে খেয়ে সমুদ্রসৈকতে যেতে হবে। কারণ বেলা তিনটায় সব জাহাজটেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। আর শতভাগ সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে চাইলে থেকে যেতে পারেন। পর্যটকদের সেই সুবিধা দেওয়ার জন্য বেশ কিছু হোটেলগড়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজনের কাছেই প্রাসাদ প্যারাডাইস, হোটেল অবকাশ, প্রিন্স হেভেন, ব্লু মেরিন, সি-ভিউসহ বিভিন্ন হোটেলের খবর পেয়ে যাবেন।
ভাড়া পড়বে মৌসুম অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ছেঁড়াদ্বীপ

টেকনাফ উজেলার অধিক্ষেত্রভূক্ত বঙ্গোপসাগরের মাঝে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ছেড়া দ্বীপ নামের এ ছোট্ট ভূ-বিন্দুটি অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ভূখণ্ড। জোয়ারের সময় সেন্টমার্টিন হতে দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি স্থানীয় লোকদের নিকট ছেড়াদিয়া নামেও পরিচিত। ছেড়া শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন এবং দিয়া শব্দের অর্থ দ্বীপ। জোয়ারের সময় বিন্দু-দ্বীপটি

মুল-দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে বিচ্ছন্ন বা  ছিড়ে যায়। তাই দ্বীপটির নাম হয় ছেড়াদ্বীপ বা ছেড়াদিয়া। এ দ্বীপে কোন মানুষ বসবাস করেন না। জেলেরা দিনের বেলা মৎস্য আহরণ করে এবং  রাতে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করে। ছেঁড়াদিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাঁচস্বচ্ছ জলকেলি। এ দ্বীপের চারিদিকের জল এত স্বচ্ছ যে, অনেক গভীরে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, প্রবাল ও সামুদ্রিক শৈবাল খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। এমন অপূর্ব দৃশ্য অবলোকনের সুযোগের জন্য ছেঁড়া দ্বীপ পর্যটকদের নিকট অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত।

সোনাদিয়া দ্বীপ

মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ স্বর্ণালী ঐশ্বর্যের প্রাকৃতিক আলেখ্য। ছোট এ দ্বীপটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। সোনা শব্দের অর্থ স্বর্ণ এবং দিয়া শব্দের অর্থ দ্বীপ বা বসতিখণ্ড। সৃষ্টির পর জনবসতির সূচনালগ্ন থেকে দ্বীপটি প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরান বিভবের উৎস হিসেবে সুপরিচিত ছিল। উর্বর মাটিতে বীজ রোপন করলে বেরিয়ে আসতো রাশি রাশি ধান-সোনালি ছড়া। সমুদ্রে মৎস্য বা রূপোলি সোনার অশেষ সমৃদ্ধি চোখ ধাঁধিয়ে দিত। দৈনন্দিন জীবনে অত্যাবশ্যক লবণ উৎপাদনের জন্যও সোনাদিয়া এশিয়া মহাদেশে একসময় একনামে বিখ্যাত ছিল। দ্বীপটি সোনার মত মূল্যবান সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল বলে এর নাম হয় সোনাদিয়া। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বুকে বিখ্যাত দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর নিকটে সোনাদিযা অবস্থিত। মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বুকে এক চমৎকার অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশে সোনাদিয়ার বিভবময় অবস্থান। সোনাদিয়া মেহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত। একসময় ঘটিভাঙ্গা খাল দ্বারা

মহেশখালী থেকে সোনাদিয়া বিচ্ছিন্ন ছিল। পরবর্তীকালে খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। সোনাদিয়াকে সরকার প্রতিবেশ সংকট এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। যাযাবর পাখির ভূ-স্বর্গ হিসেবে খ্যাত দ্বীপটি বিশ্বের বিভন্ন স্থান হতে আগত অতিথি পাখির কাকলীতে ছন্দোময় বন্দনার কলহাস্যে মূখরিত হয়ে উঠে। দ্বীপের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ, সমুদ্র ও সূর্য স্নানের একটি আদর্শ স্থান। বালুকাবেলায় বিভিন্ন প্রকার ঝিনুক ও মুক্তার সমারোহ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এখানে প্রচুর মাছ শুকানো হয়। যা শুটকি বা ড্রাই ফিশ হিসেবে সারা দেশে খ্যাত।

মহেশখালী জেটি 


মহেশখালীর উৎপত্তি দ্বীপ হিসেবে নয়। এটি কয়েকশ বছর আগেও মুল ভূখণ্ড কক্সবাজারের সাথে সংযুক্ত ছিল। ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপটি কক্সবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট জেটি বা ৬নং জেটি ঘাট থেকে ১০-১২ মিনিটের মধ্যে বাঁকখালী ও বঙ্গোপসাগর মোহনা পাড়ি দিয়ে স্পীড বোট যোগে মহেশখালী মহেশখালী দ্বীপে পৌঁছা যায়। গাছের বোট দিয়ে কক্সবাজার জেটি থেকে মহেশখালী যেতে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। বিচ্ছিন্ন ও অনুনন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন মহেশখালী ছিল কক্সবাজারের একটি পশ্চাৎপদ এলাকা। অধিবাসীদের পেশা ছিল শুধু পশুপালন, চাষাবাদ ও মৎস্য আহরন। অরণ্যবেষ্ঠিত দ্বীপটি হিংস্রজন্তু বাঘ, ভাল্লুক ও হাতির চারণভূমি হিসেবে দীর্ঘদিন অনাবাদি অবস্থায় পড়েছিল। পরবতীকালে আস্তে কিছু লোক মহেশখালী গিয়ে চাষাবাদ ও মৎস্য আহরণ শুরু করে। মহেশখালী জেটি নির্মিত হওয়ার আগে লোকজন মহেশখালী যাতায়াত ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। দ্বীপে কোন রাস্তা ঘাট ছিল না। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে মহেশখালী জেটি নির্মাণ করা হয়। ১৮২ পিলার বিশিষ্ট জেটিটির দৈর্ঘ্য ৬৯৫ মিটার ও প্রস্থ ৬ মিটার। বাঁকখালী খালের নাব্যতা ও ভরাটজাত কারণে জেটিটি কয়েকবার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। জেটি নির্মাণের পর মহেশখালীর জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থা আমুল পাল্টে যায়। এলাকার রাস্তাঘাট, বসতবাটি প্রভৃতি আধুনিকতার ছোঁয়ায় সানন্দময় হয়ে উঠে। যাতায়াত সাবলীল হওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। অধিবাসীদের পেশায় বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীল আধূনিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠে।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে রয়েছে :

মৎস্য অবতরণ ও পাইকারী মৎস্য বাজার
জেলার গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান
পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার
বড়ঘোপ সমূদ্র সৈকত
বড়ঘোপ সমূদ্র সৈকত
রাখাইন পাড়া
চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু
কাকারা শাহওমর মাজার
মনোমুগ্ধকর গোলাপ বাগান
ডুলাফকির মাজার
চিংড়ি রপ্তানি জোন
লবণ রপন্তানি জোন
বার্মিজ মার্কেট
মাতামুহুরী নদী
মগনামা ঘাট
ইনানী সি বীচ
কানা রাজার সুড়ঙ্গ
মৎস্য খামার
অজ্ঞমেধা ক্যং
রাডার স্টেশন
হিমছড়ি
রামকোট বৌদ্ধ বিহার
শ্রী শ্রী রামকূট বৌদ্ধ বিহার
লামারপাড়া বৌদ্ধবিহার
রাবার বাগান
ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক
মথিনের কূপ
সেন্টমাটিন প্রবালদ্বীপ
মহেশখালী জেটি