কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কোরবানির ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আগমন ঘটে লাখো পর্যটকের। এসব পর্যটকদের বরণ করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

এবছর শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়,আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পর্যটকদের সমাগম ঘটবে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন,পাথুরে বিচ ইনানী, বৌদ্ধ পুরাকৃত্তির শহর রামু, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও রাখাইনপল্লী, ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, হিমছড়ির অপরূপ ঝর্ণা ও দরিয়ানগরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট।

জানা যায়, কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় গড়ে উঠা সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাজানো হয়েছে নানা সাজে। সৈকতের চেয়ার গুলোতে পুরনো রং তুলে লাগানো হচ্ছে প্লাস্টিক পেইন্ট কিংবা ডিসটেমপার। রেস্তোরাগুলোতে চলছে ধোয়ামুছা ও রঙ লাগানোর প্রতিযোগিতা।

কক্সবাজার কীটকট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাবু জানান, হোটেল ও মোটেলের পাশাপাশি সাগর পাড়ের কীটকট চেয়ারে রং লাগানোসহ দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলোকে সাজানো হয়েছে।

 

কক্সবাজার হোটেল বিচটা বে-রির্সোটের ম্যানেজার মো.কলিম উল্লাহ জানান,প্রতিবছর ঈদের ছুটিসহ নানা ছুটিতে ব্যাপক সংখ্যক পর্যটকের ভিড় হয় কক্সবাজারে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইতোমধ্যে অগ্রীম বুকিং এর জন্য ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

কক্সবাজার হোটেল সী-গার্ল এর সহকারী ম্যানেজার নুরুল আলম জানান, অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে দেশের ও কক্সবাজারের পরিবেশ অনেক ভাল। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলো বুকিং হওয়া শুরু হয়েছে। এতে বছরের অন্যান্য সময়ের লোকসান কাটিয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার লং বিচ হোটেলের হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ তারেক বলেন,কক্সবাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ আছে। এবার দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকেরও আসছে। ইতোমধ্যে লং বিচ হোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি জানান,কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, কবিতা চত্ত্বর, শাহীন চত্ত্বর, দরিয়া নগর, ইনানীতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ১৩৬ জন সদস্য তিন শিফ্টে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে.কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন,পর্যটন শিল্প বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।