ঘুরে আসুন বিশ্বের অন্যতম কয়েকটি পর্যটন শহর

ট্রাভেল নিউজ বিডিঃ প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী দেশের বাহিরে যান ভ্রমণ করার জন্য। ভ্রমণ প্রিয় এসব মানুষদের জন্য আজকে তুলে ধরছি  বিশ্বের আধুনিক এবং পর্যটন নির্ভর কয়েকটি শহরের পরিচিতি। আশা করি ভ্রমণপ্রেমী যে কেও এর থেকে কিছুতা হলেও উপকৃত হবেন।

পাতায়া

pataya-beach-2

পাতায়া বীচ

ব্যাংকক থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রতীরের ছিমছাম শহর পাতায়া। মূলত রাতের অাঁধারে জেগে ওঠা যে কয়টি শহর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এটি। রাতের গভীরতা যত বাড়ে, আলোর ঝলকানিও সেই সঙ্গে পাল্লা দেয়। তালে তালে চলে সংগীতের মূর্ছনা। পর্যটকের ভিড় ঠেলা দায়। নাইট ক্লাব, রেস্তোরাঁ, সমুদ্রের তীর_ সবকিছু একাকার। এককথায় অন্য এক জগৎ। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে পাতায়া। বাসে দু-তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন। দেড়শ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে সোয়াশ’ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলবে বাস। সমুদ্রতীরের এই ছিমছাম শহরটি যেন বিনোদনের স্বর্গরাজ্য। ডিস্কো, পাব, গোগো ক্লাবগুলো সমুদ্র তীরজুড়ে সাজানো। আমাদের কঙ্বাজারের মতো বিশাল ঢেউ না থাকলেও বড় মোহনীয়। মনে হয় তীর দিয়ে শুধু হেঁটে বেড়াই। সমুদ্রের ভিতরে আছে বিশাল বিশাল নৌযান। সেগুলোর একেকটি যেন ছোট্ট শহর।

পাতায়া থেকে সমুদ্রের ভিতরে তাকালেই দেখা যায় অসংখ্য কোরাল দ্বীপ। সেগুলোও দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো। সবুজের সমারোহের চারপাশে নীল জল। পাতায়া থেকে লাইট জাহাজযোগে যেতে পারেন তেমনই একটি দ্বীপ ‘কোলহার্ন’-এ। চারদিকে অসীম জলরাশির মধ্য দিয়ে ছুটে চলার রোমান্সই আলাদা। ‘কোলহার্ন’-এ কেউ কারও দিকে ফিরেও তাকায় না। কেউবা এরই মধ্যে সেরে নিচ্ছে সমুদ্রস্নান। সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা যায় পাতায়ায়। পাতায়ায় রয়েছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টহাউস। খাবার হোটেল নিয়েও ভাবতে হবে না। বেশ কয়েকটি বাংলা-ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। টাকিভর্তা থেকে শুরু করে নানা স্বাদের সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যায়। আবাসিক হোটেলগুলোতে ভাড়া খুবই কম। পরিচ্ছন্ন ও ছিমছাম শহরে কটা দিন কিভাবে কেটে যাবে টেরই পাবেন না। এ ছাড়া ব্যাংকক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি থিমপার্ক। বাঘ-সিংহ থেকে শুরু করে জিরাফ, গণ্ডার, ময়ূর, হরিণ, ভাল্লুকসহ হরেক জীবজন্তু আর পাখপাখালির যেন মেলা বসে সেখানে। ০০৭খ্যাত জেমস বন্ড সিরিজের চলচ্চিত্রের জীবন্ত প্রদর্শনী দেখা যাবে সাফারি ওয়ার্ল্ডে। সরাসরি আয়োজিত ৪৫ মিনিটের এই শো হলিউড সিনেমার নানা অ্যাকশন দৃশ্যে ভরপুর। বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ভস্মীভূত হওয়ার দৃশ্য, আগুনে পুড়ে মানুষের কঙ্কাল হয়ে যাওয়া, সাগরের ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে স্পিডবোটে হিরোইনের চলে আসা_ এ রকম অনেক আকর্ষণীয় বিষয় দিয়ে সাজানো হয়েছে সাফারি ওয়ার্ল্ড। তাই তো পাতায়াকে বলা হয় বিনোদনের স্বর্গরাজ্য।

বালি

bali

বালি দ্বীপ

ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম পর্যটন শহর বালি। মূলত বালি দ্বীপকে কেন্দ্র করেই এই শহরের সৃষ্টি। বালি হলো ইন্দোনেশিয়ার ৩৩তম প্রদেশ। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অবকাশ যাপনের জন্য এই শহরে আসেন। বালির অপরূপ সৌন্দর্য মানুষকে বিমোহিত করে। তাই তো মানুষ প্রাণের টানে বারবার এখানে ফিরে আসে। এ শহর পর্যটকদের হৃদয়ের রানী বনে গেছে। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকায় পর্যটকদের ভিড় সবসময় লেগে থাকে। এ শহরের প্রধান আকর্ষণ হলো বালি দ্বীপ এবং এর সৌন্দর্য। আয়তন প্রায় ২২ হাজার বর্গমাইল আর লোকসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এ দ্বীপের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। এটি মূলত হিন্দুপ্রধান প্রদেশ। হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ৯০ ভাগ। বাকিরা মুসলিম, খ্রিস্টান ও অন্য ধর্মের।

বালিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পাঁচতারকা হোটেল, মোটেল, ক্যাসিনো, বারসহ সবকিছু রয়েছে। তাই যে কোনো ধরনের পর্যটক এ দ্বীপ সফর করতে পারে। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে বালি আবিষ্কৃত হয়। বালি মূলত ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ কালচারে গড়ে উঠেছে। বালিকে আটটি রিজেন্সিতে ভাগ করা হয়েছে। বালিতে শহর বা সিটি আছে মাত্র একটি আর তা হলো ডেনপাসার, যা এ প্রদেশের রাজধানী। অন্য রিজেন্সি হলো জেমবারানা, টাবানা, বেডুং, জিয়ানইয়ান, কুলাংকুন, বানলি, কারানগাছেম, বুলেলেং ও ডেনপাসার। এখানকার অর্থনীতি পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক থেকেই আসে প্রায় ৮০ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা। বালির প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হলো কুতা সমুদ্রসৈকত। এখানেই প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ বেড়াতে আসে।

 সিঙ্গাপুর সিটি

singapore

সিঙ্গাপুর সিটি

বিশ্বের যে কয়েকটি শহর পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে সিঙ্গাপুর সিটি অন্যতম। প্রতিবছর কয়েক মিলিয়ন পর্যটক সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন। এখানে দেখার মতো যেসব পয়েন্ট বা স্থাপনা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে নাইট সাফারি, মারলাওন পার্ক, সান্তোসা আইল্যান্ড অন্যতম। নাইট সাফারিতে গভীর রাতে জঙ্গলের ভিতরের নানান পশুপাখিদের মাঝ দিয়ে ট্রামে করে পর্যটকরা বিচরণ করেন। বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক, হাতি, উট, কুমির এ সাফারির প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। এ সাফারিতে পশুপাখিরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়। মারলিন বা সিংহ-মৎস্য হচ্ছে সিঙ্গাপুরীদের গর্বের প্রতীক, বীরত্বের প্রতীক। কথিত আছে বহু আগে সিঙ্গাপুর যখন তেমাসেক বা সমুদ্রনগরী নামে পরিচিত ছিল তখন প্রচণ্ড এক সামুদ্রিক ঝড় ওঠে দ্বীপে। অধিবাসীরা যখন নিজেদের সঁপে দেয় ঈশ্বরের হাতে ঠিক তখনই সমুদ্র থেকে সিংহ-মৎস্য আকৃতির এক জন্তু এসে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঁচিয়ে দেয় অধিবাসীদের। আর সে থেকে মারলিন নামের সিংহ-মৎস্য সিঙ্গাপুরীদের গর্ব আর বীরত্বের প্রতীক। মারলিনের মূর্তি ম্যারিনা বে-এর মারলাওন পার্কে অবস্থিত। আর সান্তোসা আইল্যান্ড হলো সমুদ্রের মাঝে ছোট এক দ্বীপে গড়ে তোলা বিনোদন কেন্দ্র।

 প্যারিস

paris

আইফেল টাওয়ার

শিল্প ও সাহিত্যের শহর প্যারিস। শহরের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আইফেল টাওয়ার। মূলত এই টাওয়ারকে কেন্দ্র করেই পর্যটন ব্যবসা ঘুরপাক খাচ্ছে এ শহরের। এ ছাড়া দেখার মতো এই শহরে প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক সভ্যতার অনেক স্থাপনা রয়েছে। বিশেষ করে মধুচন্দ্রিমা উদযাপনের জন্য নবদম্পতিদের কাছে পছন্দের তালিকায় এ শহরের অবস্থান শীর্ষে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে আইফেল টাওয়ার। বিশ্বের অন্যতম পর্যটন স্পট এটি। আইফেল টাওয়ারটি স্থাপনা নির্মাণের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনাই বটে। ১৮৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার যখন ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকী পালনের তোড়জোড় করছিল তখন সে ঘটনাটিকে স্মরণীয় এক নিদর্শনে ধরে রাখার জন্যই এই প্রতীক মিনারটি তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল তারা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চে মাত্র দুই বছর, দুই মাস, দুই দিনে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল। এত উঁচু আর এমন আকৃতির টাওয়ার বানাতে খুবই কম শ্রম ব্যয় করা হয়েছে। টাওয়ারটিতে আছে অর্ধবৃত্তাকার চারটি তোরণ। ওঠানামার জন্য আছে কয়েকটি লিফট। সাত হাজার টন ওজনের এ স্থাপনাটিতে সিঁড়ি আছে এক হাজার ৭৯২টি।

 কাঠমান্ডু

কাঠমান্ডু শহর প্রকৃতপক্ষে তিনটি শহর নিয়ে গড়ে উঠেছে। কাঠমান্ডু, ভক্তপুর ও পাটন বা ললিতপুর। ললিতপুর হলো নেপালের প্রাচীন রাজবংশের আবাসস্থল। ১২০০ শতকের রাজপ্রাসাদ ও অভিজাতদের প্রাসাদসহ পুরো এলাকাটি পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে কোনো আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। কাঠমান্ডুতে দেখার মতো যে কটি মন্দির রয়েছে তার মধ্যে বুদ্ধনাথ বা বোধনাথ মন্দির অন্যতম। এটি কাঠমান্ডুর অন্যতম পবিত্র জায়গা। ধবধবে সাদা মূল মন্দিরটি ঘিরে অসংখ্য উপাসনালয় এবং দোকান রয়েছে। চারদিকে পায়রা দিয়ে ভরা। একসঙ্গে দল বেঁধে উড়ে বেড়ায় এবং দর্শনার্থীরা খাবার দিলে মারামারি করে খায়। অন্যদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য রয়েছে বালাজি ওয়াটার গার্ডেন। রয়েছে সাউথ এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত বৌদ্ধমন্দির শম্ভুনাথ স্তূপাতে। এটা মাংকি টেম্পল নামেও সুপরিচিত। অন্যদিকে নগরকোটের রিসোর্টে সবাই যায় শুধু সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় দেখতে।

স্পেনস সিয়েস

স্পেনের সিয়েস দ্বীপপুঞ্জের সমাহারকে বলা হয় লাস আইসল্যান্ড সিয়েস। বিশ্বের সেরা পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই দ্বীপপুঞ্জ বা ছোট্ট এই শহর। বিনোদন, প্রমোদ ও অবকাশের সবকিছুই রয়েছে এখানে। আনন্দ উল্লাস করতে করতে কখন যে সময় দিন পার হয়ে যাবে তা টেরই পাওয়া যাবে না। স্থানীয় ভাষায় এ দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস আইসল্যান্ড সিয়েস’ বলা হয়। স্পেনের উত্তর-পশ্চিমে গ্যালিসিয়ায় এ দ্বীপপুঞ্জে তিনটি দ্বীপ আছে- মন্টেগিউদো, দো ফারো ও সান মার্টিনো। মন্টেগিউদোকে শার্প মাউন্ট কিংবা উত্তর দ্বীপও বলা হয়ে থাকে। অন্যদিকে দো ফারোকে লাইটহাউস দ্বীপ ও দক্ষিণ দ্বীপ নামেও ডাকা হয়। মন্টেগিউদো সৈকতকে ‘মোস্ট বিউটিফুল বিচ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নাম দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০০ বছর আগে এসব দ্বীপে মানুষ বসবাস করত। কিন্তু কোনো একসময় দ্বীপগুলো জলদস্যুর আক্রমণে মানবশূন্য হয়ে যায়। এরপর ১৯৮০ সালে এ দ্বীপপুঞ্জ বসতিবিহীন ন্যাশনাল পার্ক নামে সংরক্ষিত প্রকৃতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সারা বছরই এখানে ঢল নামে পর্যটকের। তবে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি ভিড় পরিলক্ষিত হয়। ফিরোজা রঙের স্ফটিক স্বচ্ছ পানি আর ধবধবে সাদা বালুকারাশি যে কাউকে টেনে আনে এ সৈকতে। তবে ১৯৯২ সাল থেকে এ সৈকতে মাছ এবং ১৯৮৮ সাল থেকে পাখি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। প্রাকৃতিক এ সৈকতে প্রকৃতিগতভাবেই বেড়ে উঠেছে ঝোপঝাড়। কাঁটাওয়ালা চিরহরিৎ গুল্ম, খাড়া ডালওয়ালা গুল্মসহ বিভিন্ন লতাপাতায় ঢাকা ঝোপঝাড় এ সৈকতের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আছে ওক, ডুমুর, পাইন ও ইউক্যালিপটাস। প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক এখানে আসেন অবকাশ কাটাতে। এদের বেশির ভাগই গ্রিস, ফ্রান্স ও ইতালির। করপোরেট হাউসের বার্ষিক সভাও অনুষ্ঠিত হয় এখানে।

 আগ্রা

tajmoholagra

তাজমহল

যে কয়টি স্থাপত্যের ওপর ভারতের পর্যটনশিল্প দাঁড়িয়ে, সেগুলোর মধ্যে তাজমহল অন্যতম। আর এই তাজমহলকে ঘিরে জমজমাট হয়ে থাকে আগ্রা শহরটি। তাজমহল ছাড়া প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সভ্যতার অনেক নিদর্শন রয়েছে এই শহরে। তারপরও সবার দৃষ্টি থাকে সম্রাট শাহজাহানের তৈরি এ স্থাপত্যের দিকে। কেউ কেউ তাজমহলকে ভারতের পর্যটন শিল্পের মেরুদণ্ডও বলে থাকেন। ভারতে ঘুরতে এলে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে প্রথম পছন্দ থাকে তাজমহল। বিশেষ করে নতুন বিবাহিতদের কাছে সৌধটির আকর্ষণ অন্যরকম। এ কারণে আগ্রার সঙ্গে দেশের সব শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি ঘটানো হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে সড়কপথের দূরত্ব খুব একটা বেশি না হওয়ায় বাইরের পর্যটকরা আগ্রায় ভিড় করেন বেশি। অন্যদিকে তাজমহলের কাছাকাছি এলাকায় মোগল স্থাপত্য ও দুর্গ রয়েছে। রয়েছে সম্রাট আকবরের বিলাসবহুল দুর্গ। মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম যিনি মমতাজ নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশে এ অপূর্ব তাজমহল নির্মাণ করেন। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যার কাজ সম্পন্ন হয় প্রায় ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে। তাজমহল ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এটি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নকশার ওপর, বিশেষ করে পারস্য ও মোগল স্থাপত্য অনুসারে। তাজমহল ঘুরতে গেলে যে বিষয়টি মনে রাখা জরুরি তা হলো- দেশীয় পর্যটক ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশ মূল্য রাখা আছে। এ ছাড়া আগ্রার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা, যা মোগল সম্রাটদের স্থাপত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।