ড্রিমল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্র

ট্রাভেলনিউজ বিডিঃ  ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড় থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বগুড়ার দিকে যেতেই পথের পশ্চিম দিকে পড়বে ড্রিমল্যান্ডড্রিমল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্রের নাম জানেন এখন উত্তরবঙ্গের অনেকেই। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ১৭ একর জায়গার ওপর বিশাল এই বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর লোক আসছেন ড্রিমল্যান্ডে বেড়াতে এবং বনভোজন করতে।’। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১৯৯৫ সালে। পলাশবাড়ীর হরিণমারী গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রিমল্যান্ড নামের এই বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে তুলেছেন।

ড্রিমল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্রে যা দেখতে পাবেন

এই বিনোদন কেন্দ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং আকর্ষণ হচ্ছে এখানে স্থাপন করা হয়েছে বাংলার কৃতী সন্তান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ্বের ২৫৫ মনীষীর আবক্ষ ভাস্কর্য। সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি করা এসব ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে মনোরম এই উদ্যানটির বিভিন্ন পথের পাশে সাড়িবদ্ধভাবে। এছাড়া বেগম রোকেয়া থেকে শুরু করে আইজাক নিউটন, মাদাম কুরিসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাত পাবেন ড্রিমল্যান্ডে আগত দর্শকরা পথে হেঁটে যেতে যেতে। স্বাধীনতার স্মারক হিসেবে শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ এবং জাগ্রত জনতা নামে মুক্তিযোদ্ধাদের সাদা রঙের ভাস্কর্য এখানে রয়েছে। সেই সাথে ইতিহাসে কুখ্যাত স্মারক হিসেবে ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, মোস্তাক আহমেদ-এর মূর্তি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের তাদের অপকর্ম স্মরণ করিয়ে দিতে। ড্রিমল্যান্ডের ভেতরে রয়েছে ছোট রেস্তরা ও ফাস্টফুডের দোকান। অচিরেই এখানে উন্নতমানের রেস্তরা ও আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে বলে ড্রিমল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। দর্শনার্থী বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বিনোদনের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বিজ্ঞান চেতান জাগানোর জন্যই বিনোদন কেন্দ্রটিতে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণীজনদের মর্মর মূর্তি এখানে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একই কারণে ১৯৫৭ সালের বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার পলাশীর যুদ্ধ ক্ষেত্রের মানচিত্র এবং বাংলাদেশের একটি মানচিত্রও এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।

গোটা এলাকাতেই নানা ফল ও ফুলের সুদৃশ্য গাছসহ বিভিন্ন পশুপাখির মূর্তি, মিনি পার্ক, লাল শাপলা ফুলের পুকুর এবং পৃথক পৃথক পিকনিক স্পটও এখানে বিদ্যমান। মিনি চিড়িয়াখানায় এখন শুধু রয়েছে বানর। তবে কর্তৃপক্ষরা জানালেন, ঈগল, বনবিড়াল, খরগোশসহ বিভিন্ন ধরণের দেশী পাখি ও জীবজন্তু রাখার পরিকল্পনা তারা নিয়েছে। শাপলা পুকুরে ইতোমধ্যেই ফুঁটতে শুরু করেছে শত শত লাল শাপলা। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য নৌবিহারের ব্যবস্থাও রয়েছে। দেশী-বিদেশী মৌসুমী ফুল, অর্কিড, ক্যাকটাস, বহু দূর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ তরুলতায় মনোরমভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রটিকে।প্রতিদিন প্রায় দেড়-দু’শ লোক বেড়াতে বা পিকনিক করতে আসছেন এখন ড্রিমল্যান্ডে।

প্রবেশ ফিঃ  ড্রিমল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্রে প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি  ১০ টাকা।

রশিদুন্নবী চাঁদ জানান,  ড্রিমল্যান্ডকে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্র এবং পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনীয় সরকারী সহায়তা পেলে এ ক্ষেত্রে দ্রুত সার্বিক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।