পর্যটন শিল্প ধ্বংস করার লক্ষে থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক বোমা হামলা

ট্রাভেল নিউজ বিডিঃ থাইল্যান্ডের পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই গত সপ্তাহের ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়েছিল বলে মনে করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে দেশটির সামরিক জান্তা এক বিবৃতিতে বলেছে, গত সপ্তাহের ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় আক্রান্ত হয়নি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্প। সামরিক জান্তার মুখপাত্র কর্নেল উয়িনথাই সুভারি বলছিলেন, ব্যাংকক ও অন্যান্য প্রদেশের আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকাসমূহে এখনও পর্যটকরা বিপুল সংখ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যা উল্লেখ করেননি। ওই মুখপাত্র বলেন, পর্যটন এবং খেলাধুলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে যে, থাইল্যান্ডে ভ্রমণে আসা বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা স্বাভাবিক আছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্যটন শিল্প আক্রান্ত হয়েছে কিনা, তা বলার সময় এখনও আসেনি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এরাওয়ান মন্দিরে এককভাবে পরিচালিত সবচেয়ে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় ১৪ বিদেশী নাগরিকসহ ২০ জন নিহত  হয়েছিলেন। ১৭ই আগস্টের ওই হামলায় বহু সংখ্যক বিদেশী পর্যটক নিহত হওয়ায় দেশটির পর্যটন শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আশঙ্কা করছিলেন, নিরাপদ গন্তব্য হিসেবেই থাইল্যান্ডের যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল, তা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বোমা হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে ৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। শুধু চীনাদের থাইল্যান্ড ভ্রমণ থেকে বিরত রাখতে নয়, পুরো পর্যটন খাতই ছিল এ হামলার লক্ষ্য। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও হোটেল কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদের কেউ কেউ থাইল্যান্ড ভ্রমণ বাতিল করছেন। থাইল্যান্ডের অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। ওদিকে বিস্ফোরণের আগে বিস্ফোরণস্থলে প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তির একটি ব্যাগ রেখে যাওয়ার ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও, এখনও পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হামলার পেছনে কোন জঙ্গি সংগঠন জড়িত ছিল, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।