বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে আধুনিক জাহাজ চলাচল শুরু

বিমানের আদলে গড়া অত্যাধুনিক জাহাজে মাত্র ৫ ঘণ্টায় ঢাকা-বরিশাল রুটে সার্ভিস শুরু হতে যাচ্ছে। ৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান দিবা সার্ভিসের জন্য গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের এমন দুটি জাহাজ উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৬০০ যাত্রী বহনে সক্ষম এ জাহাজে একদিনের মধ্যেই বরিশাল থেকে ঢাকা গিয়ে আবার বরিশালে ফেরা সম্ভব বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার বরিশালে পরীক্ষামূলক সার্ভিস দিয়েছে জাহাজ দুটি।

Green-Line

গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ বরিশালের ইনচার্জ মোঃ বাদশা বলেন, এমভি গ্রিন লাইন-২ ও এমভি গ্রিন লাইন-৩ আগামী ৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হবে। বিমানের আদলে গড়া এ জাহাজ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মাত্র ৫ ঘণ্টায় এ জাহাজে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করা যাবে। এতে দুই ক্যাটাগরির আসন ব্যবস্থা রয়েছে। ইকোনোমি ক্লাসের ভাড়া ৭০০ টাকা এবং বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ১০০০ টাকা। এ ভাড়ার মধ্যেই রয়েছে খাবারের আয়োজন। গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের মোঃ রিপন বলেন, প্রতিদিন বিকাল ৩টায় ও সকাল ৮টায় তাদের জাহাজ যাত্রা করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তায়ও তাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঢাকার উপপরিচালক মোঃ কবির হোসেন বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের দুটি জাহাজ যাত্রী সার্ভিস শুরু করতে যাচ্ছে। কেননা পদ্মা সেতু হলে নৌপথের যাত্রীসেবা টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের দ্রুতগতিসম্পন্ন জাহাজ দরকার হবে। জানা গেছে, এমভি গ্রিন লাইন-২ ও এমভি গ্রিন লাইন-৩ এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাহাজ দুটি ক্যাটাম্যারান টাইপের ব্রিটিশ এয়ারলাইনসের বিমানের মতো চেয়ার সিট। এর নিচের অংশ স্টিল আর উপরের অংশ ফাইবারের তৈরি। যে কারণে ডুববে না বরং উল্টে গেলেও ভাসমানই থাকবে- এমনটাই দাবি গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের।

বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ৮ সেপ্টেম্বর জাহাজ দুটি উদ্বোধন করা হবে। ৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল থেকে প্রথম যাত্রা করবে। এ জাহাজ চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষ দিনের বেলায়ও যানজটমুক্ত পরিবেশে ঢাকায় যাওয়া-আসা করতে পারবেন। এজন্য বরিশাল ঘাটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, লঞ্চ মালিকদের কাছে জিম্মি বরিশালের যাত্রীরা। তাদের কারণে অন্য কোনো নৌযানও এসে টিকে থাকতে পারে না। সে অনুযায়ী লঞ্চের রোটেশন প্রথা ভাঙতে এমন অত্যাধুনিক দ্রুতগতির জাহাজ চালু হওয়া দরকার। লঞ্চ রোটেশন প্রথা বাতিল কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, ডে সার্ভিসে ওয়াটারওয়েজ জাহাজ বরিশালের মানুষের জন্য সুখবর। তবে এ জাহাজ যাতে লঞ্চ মালিকদের চক্রান্তে বে ক্রুজের মতো বন্ধ না হয়ে যায় সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ