মেগা বীচ কার্ণিভালের উদ্দেশ্য কক্সবাজারকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম সৈকতের নগরী পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতেই দেশের প্রথম মেগা বীচ কার্ণিভাল কক্সবাজারে আয়োজন করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশকেও বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেয়া এই কার্ণিভালের উদ্দেশ্য। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় মোটেল শৈবালের সম্মেলন কক্ষে মেগা বীচ কার্ণিভাল নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটনের বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটনের এইসব সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে ফুটিয়ে তুলতে কার্ণিভালের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কক্সবাজার দিয়ে প্রথম কার্ণিভাল আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় কার্ণিভালের আয়োজন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী মেনন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পর্যটন বর্ষকে সামনে রেখে প্রথম বারের মতো মেগা বীচ কার্ণিভাল আয়োজনের মাধ্যমে আমরা নূতন বছরকে স্বাগত জানাবো। ‘ভিজিট বাংলাদেশ-২০১৬’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কার্ণিভালের উদ্দেশ্য হলো কক্সবাজার তথা বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে অধিকতর পরিচিত করা এবং বিদেশী পর্যটকদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ করা।’

বীচ কার্ণিভাল ডেস্টিনেশন-কক্সবাজার উপলক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, ট্যুরিষ্ট পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সাথে মেগা বীচ কার্ণিভাল সফল করার জন্য কক্সবাজারের সকল সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, কক্সবাজার পৌরসভা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, এনজিও, ট্যুর অপারেটরসসহ সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছেন বলে দাবী করেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কার্ণিভাল উৎসবমুখর ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। তিন দিনের অনুষ্ঠানের কর্মসূচীতে প্রথম দিনে রয়েছে, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ক্রিকেট ম্যাচ, বালু ভাস্কর্য, ঘুড়ি উৎসব, বলিখেলা, প্যারাসেলিং, ফানুস উড়ানো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় দিনে থাকছে কাবাড়ি, ফুটবল ম্যাচ, ভাস্কর্য, সাইক্লিং, ক্রিকেট, ভলিবল, ক্রিকেট ম্যাচ বালু ভাস্কর্য, ঘুড়ি উৎসব প্যারাসেলিং,ফানুস উড়ানো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তৃতীয় দিনে থাকছে কাবাড়ি, মোরগ লড়াই, সা

র্ফিং, লায়ন, নৃত্য, ঘুড়ি উৎসব, মাইক্রো লাইট এয়াক্রাটফট, ফানুস উড়ানো এবং সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।
৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্যারেড। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামররিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ।

সমাপনী বক্তব্যে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, জানাতে চাই, দেখতে চাই, দেখাতে চাই, শুনতে চাই, শোনাতে চাই। আমি আশা করি তিনদিন ব্যাপী মেগা বীচ কার্ণিভাল আমাদের সামনে এই রকম সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। কার্ণিভালের প্রতিটি ইভেন্ট স্বত:স্ফুর্তভাবে সকলেই উপভোগ করতে পারবেন। এর জন্য কোন ফি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম কুতুবী, জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. আহমদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফাসহ আরো অনেকে।