কক্সবাজারে অধিকাংশ হোটেলের বুকিং বাতিল

নিরাপত্তা জনিত কারণে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারী পর্যন্ত পাঁচদিন সন্ধ্যার পর সৈকতে অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় পর্যটন ব্যবসায় গুরুতর ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। নববর্ষকে স্বাগত ও পুরনো বছরকে বিদায় জানাতে প্রতি বছর কক্সবাজারে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন ও বেড়ানোর জন্য আগাম হোটেল ‘বুকিং’ করলেও আকস্মিক বন্ধ করায় কয়েক হাজার পর্যটক ইতিমধ্যে তাদের ‘বুকিং’ বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত পর্যটন বর্ষ ২০১৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বীচ কার্ণিভালের আয়োজন করা হয়েছে। যা ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। পালিত হবে ‘পর্যটনের কক্সবাজার’ ৬০ বছর পুর্তি । কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে সৈকতের সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে। সন্ধ্যার পর থেকে সৈকতে কোন প্রকার অনুষ্ঠান করা যাবে না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের অন্যান্য স্থানের অনুষ্ঠানগুলোও সন্ধ্যার আগেই শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, পর্যটন মন্ত্রণালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বীচ ম্যাজেম্যান্ট কমিটি যৌথভাবে তিন দিনের মেগা বীচ কার্নিভাল আয়োজন করে। এই কার্নিভালের শুরুতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেয়া অর্থ লোপাটের মহা উৎসব এখানে চলছে বলে খোদ আয়োজক কমিটির কয়েকজন সদস্য ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর পরে থার্টি ফাস্ট নাইট পালনের জন্য কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তাই পর্যটন মৌসুম শুরুর মধ্যেই হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসসমূহ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন সাজে সাজতে শুরু করে। এবার সৈকতে তিনদিনের বীচ কার্ণিভাল হওয়ায় পর্যটকদের কাছে বাড়তি আনন্দের খোরাক সৃষ্টি হয়। পর্যটকরা সাধারণত আসার আগেই হোটেল ‘বুক’ করে রাখেন। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। কিন্তু থার্টি ফাস্ট পালনের জন্য পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখনই জেলা প্রশাসন গত ২৭ ডিসেম্বর বিকালে সভা ডেকে সন্ধ্যার পর সকল ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। এ কারণে ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজের অধিকাংশ ‘বুকিং’ বাতিল হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন হোটেল মালিকরা।

স্থানীয় কয়েকজন হোটেল মালিকরা জানান, ডিসেম্বরের শুরু থেকে সকল পাঁচ তারকা মানের হোটেল শুরু হোটেল, মোটেল, কটেজগুলোর ৮০ ভাগ রুমই আগাম ‘বুকিং’ করা ছিল। কিন্তু গত রোববার সন্ধ্যার পর সব ধরনের অনুষ্টান ঘোষণা করে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকরা কক্সবাজারের হোটেল গুলোতে আগাম ‘বুকিং’ বাতিল করে টাকা ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

কক্সবাজার কলাতলীর কটেজের একজন স্বত্বাধিকারী জানিয়েছেন, তার হোটেলের সব কক্ষই ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারী পর্যন্ত অগ্রিম ‘বুকিং’ করা ছিল। কিন্তু থার্টি ফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর সবগুলোই বাতিল হয়ে গেছে।

তারকা হোটেল সী-গালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, গত কয়েকদিন দিন থেকে আগামী ১০ দিন পর্যন্ত তাদের ১৭৯টি কক্ষের ৮০ ভাগই আগাম বুকিং হয়েছিল। গতকাল সোমবার অনেকেই তাদের ‘বুকিং’ বাতিল করেছেন। হোটেল কক্স টুডে থেকে বেশ কিছু পর্যটক তাদের দেয়া বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন হোটেলটির ম্যানেজার (এডমিন) মামুনুর রশিদ।

এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন হোটেল মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি এমএন করিম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত নজর দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণার লক্ষ্য পূরণ হবে না।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাসেম সিকদার বলেন, এমনিতেই গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারিয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে থার্টি ফাস্ট নাইট ও পর্যটন বর্ষকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হঠাৎ করেই সৈকতে সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার কারণে ব্যবসায়ীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, ‘এ ধরনের ঘোষণা আমাদের বাড়া ভাতে ছাই দেয়ার মত।

ট্যুর অপারেটর সংগঠনের নেতা মুফিজুর রহমান মুফিজ জানান বলেন, নিরাপত্তা জনিত কারণে সৈকতে সন্ধ্যার পর যে কোন অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার কারণে এ অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল। সামর্থ্যবানরা অবকাশ কাটাতে এখন দেশের বাইরে চলে যাবে।