দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে করনীয়

ট্রাভেল নিউজ বিডিঃ অনেক ভ্রমণ পিপাষু রয়েছেন যারা একটু সুযোগ পেলেই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান দেশের বাইরে। ভালোবাসেন বিদেশ-বিভুঁইয়ে ঘুরে বেড়াতে। আর এমন পর্যটকদের সঙ্গত কারণেই অনেক বেশি দূরত্বের পথ ভ্রমণ করতে হয়। দীর্ষ এই ভ্রমণে ব্যবহার করতে হয় বিমানসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহন। আর এতো দীর্ষ ভ্রমণের ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে গিয়ে শরীরে চলে আসে ক্লান্তির ছায়া। যার ফলে ম্লান হয়ে যেতে পারে আপনার ভ্রমণ আনন্দ। সেই সাথে স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও সতর্কতা জারি করে। জানায়, দীর্ষ ভ্রমণের ক্লান্তি থেকে দীর্ষস্থায়ী অনিন্দ্রাজতিন সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা বেড়ের যায়। সেই সাথে ক্ষুধামন্দা, ব্লাড পেশারের তারতম্য, খাদ্য পরিপাক ক্রিয়ার নানান জটিলতাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই সৃষ্টি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের মিরর পত্রিকাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞ . নেরিনা র্যামলাখান। যা আলোকিত বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। চলুন তাহলে আজ আমরা দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তিহীন থাকার কয়েকটি টিপস জেনে নিই।

পূর্ব পরিকল্পনা: দীর্ষ ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে আপনি একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন। ভ্রমণের বের হওয়ার একসপ্তাহ আগে থেকে ভালো করে ঘুমিয়ে নিন। সেই সাথে নিয়মতি শরীর চর্চা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। বিশেষ করে ক্যাফেইন ও চর্বি জাতীয় খাবার বর্জন করুন।
সদা সক্রিয় থাকুন: বিমানবন্দরে পৌঁছার পর আপনার শরীরকে কোথাও এলিয়ে না দিয়ে সব সময় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। শরীরে আলসেমির ভাব হলে বিরক্ত না হয়ে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। বিমান উড়ার আগে শরীরের আড়মোড়া ভেঙে নিন। এতে করে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে। 
স্বাস্থ্যকর খাবার:  ভ্রমণের সময় এবং গৌন্তব্যে পৌঁছার পর স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। যেমন বিভিন্ন ধররেন ফল ও শাকসবজি। ক্যাফেইন, সুগার জাতীয় খাবর পরিহার করুন। সেই সাথে সম্ভব হলে বিমানে পরিবেশন করা অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবারও পরিহার করুন।
স্বাস্থ্যকর পানীয়: বিমানে উঠার পর উত্তেজনা দমিয়ে রাখুন। সেই সাথে এক বোতল ফ্রেশ পানি ও ভেষজ চা নিয়ে নিন। যাতে করে আপনি ক্যাফেইনযুক্ত কঠিন পানীয় পরিহার করতে পারেন।
মেডিটেশন: বিমান উড্ডয়নের ২০ মিনিট আগে চোখ বন্ধ করুন এবং মেডিটেশন করুন। অবতরণের পরেও এই কাজের পুনরাবৃত্তি করুন। সেই সাথে এমন গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন যাতে শ্বাস বের করে দেওয়ার সময় আপনার মনে হবে পেট একেবারেই খালি হয়ে গেছে।
আয়েশ করুন: বিমানে ভ্রমণের সময় মজাদার কোনো সিনেমা দেখুন। অথবা মজাদার কোনো গল্প পড়া বা গান শুনুন। যা আপনার মেজাজে অনেক শিথীলতা এনে দিতে পারে। হঠাৎ যদি আপনার ঘুম পেতে থাকে তাহলে চট করে সিনেমা দেখা বা বই পড়া বন্ধ করে দিয়ে আয়েশ করুন।
বিশ্রাম নিন: আপনি ঘুমের চাইতে বিশ্রামকেই বেশি গুরুত্ব দিন। অতিরিক্ত আরাম পেতে বিমানে ভ্রমণের সময় আপনি এয়ার ফোন বা আই মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
স্বাভাবিকতা: নতুন স্থানে যাওয়ার পর শরীরের চাহিদা মোতাবেক কাজ করুন। অযথা জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করবে না। বিশ্রাম নিয়ে নতুন স্থানের পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

ঘুম থেকে বিরত: নতুন স্থানে পৌঁছেই ঘুমানোর চেষ্টা করবে না। এতে করে আপনার শরীরের ক্লান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে আপনি দুপুর ২ টা থেকে ৪ টার মাঝখানে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ঘুমাতে পারেন।

ঘড়ির সময় বদল: নতুন জায়গায় যাওয়ার পর স্থানীয় সময় অনুযায়ী আপনার ঘড়ির সময় পরিবর্তন করে নিন। সেই সাথে আপনার নিজের দেশের সময়ের সাথে মিলিয়ে চলার চেষ্টা পরিহার করুন। যদি আপনার নিজের দেশের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান তাহলে ভ্রমণে আপনাকে খারাপ সময় পার করতে হবে।