বাংলদেশ ভ্রমণে ৬০ দেশের পর্যটক তাত্ক্ষণিক ভিসা পাবেন

ট্রাভেল নিউজ বিডিঃ বর্তমান সরকার পর্যটন শিল্পের প্রচার ও বিপণন কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ বা ভিজিট বাংলাদেশ ইয়ার-২০১৬ হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোটা বাংলাদেশকেই বিশাল একটি পর্যটন স্পট হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি এর প্রচার এবং বিপণনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিদেশিদের জন্য পর্যটনকে আরও সহজ করতে বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৬০টি দেশের নাগরিকরা পাবেন তাত্ক্ষণিক ভিসা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্বে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বুদ্ধিষ্ট পর্যটন সার্কিট উন্নয়ন বিষয়ক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনকালে বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের সুপ্রাচীন ও সমৃদ্ধ ইতিহাস স্মরণ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন বিকাশে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) সহযোগিতায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দুদিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। বিশ্বে সুপরিচিত বুদ্ধিষ্ট ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ এবং দেশীয় ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই ও সমন্বিত আন্তঃসীমান্ত বুদ্ধিষ্ট ট্যুরিজম সার্কিট ও রুটের উন্নয়ন এবং মার্কেটিং পরিকল্পনার জন্য বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরিই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। আয়োজক বাংলাদেশসহ বৌদ্ধ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ১৩টি দেশ চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল, ভারত ও শ্রীলঙ্কার পর্যটন মন্ত্রীবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট অন্যরা এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এই সম্মেলন বুদ্ধিষ্টদের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর ট্যুরিজম পরিচালনাকারীদের বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, ভারত ও শ্রীলঙ্কার ট্যুরিজম পরিচালনাকারীদের মধ্যে একটি প্লাটফরম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের বিকাশ হলে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, বাড়বে মানুষের কর্মসংস্থান। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, অফুরন্ত পর্যটন সম্ভাবনার এক দেশ। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। বিশ্ব মানচিত্রে একটি নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার জন্য এদেশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপাদানই রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক খান,  ইউএনডব্লিউটিও মহাসচিব ড. তালেব রিফাই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রীবৃন্দ, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
খোলা চিঠি গ্রহণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি জোরদার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের পর্যটন সামর্থ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভ্রমণ ও পর্যটন সংক্রান্ত খোলা চিঠি’ গ্রহণ করেছেন। জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) সফররত মহাসচিব তালেব রিফাই গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে তার কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেন।
এদিকে তালেব রিফাইয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পর্যটনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ইউএনডব্লিউটিও মহাসচিব বলেন, পর্যটন মানব জাতির জন্য কল্যাণকর এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে।

ইউএনডব্লিউটিও সফররত মহাসচিবের এ সাক্ষাত্কালে এখানে বৌদ্ধ কৃষ্টি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানকারী আফগান তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবদুল বারী জাহানী, ভুটানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী লোইয়নপো নোরবু ওয়াংচুক, কম্বোডিয়ার পর্যটন উপ-মন্ত্রী টপ সোপহিয়াক, মিয়ানমারের হোটেল ও পর্যটন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী টিন শোয়ে, ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনোদ জুিশ উপস্থিত ছিলেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।